
সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ বাস্তবায়ন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর তদারকি করছে না। এতে সরকারের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোমরা, শ্রীরামপুর ও পাটকেলঘাটা এলাকায় চলমান কয়েকটি সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নকাজে নিম্নমানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বিশ্বজিৎ কনস্ট্রাকশন’-এর সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে , সংশ্লিষ্ট কাজের তদারকিতে থাকা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী আলামিনের সহযোগিতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।
তারা আরো জানান, সহকারী প্রকৌশলী আলামিন মোটাংকের ঘুষ বানিজ্যের বিনিময়ে নিজের পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে কাজ করেন। সম্প্রতি মোটাংকের টাকার বিনিময়ে ষশোর সাবেক এমপি ও সৈরাচারের দোসর শাহিন চাকলাদারের সহযোগি বিশ্বজিৎ নামে একজনকে ঠিকাদারকে দিয়ে নিম্নমানের কাজ করিয়ে সেখান থেকে বিলের এক তৃতীয়াংশ ভাগ বটোয়ার করে খাচ্ছেন।
শ্রীরামপুর এলাকার আসাদুল নামে এক বাসিন্দা বলেন, “রাস্তার কাজে যে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খুবই নিম্নমানের। কয়েকদিনের মধ্যেই ভেঙে যাচ্ছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তার কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।
কেশবসাধু নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে না। তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, প্রকল্পের কাজ সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই করা হচ্ছে এবং মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী আলামিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিক পরিচয় ফোনটি কেটে দেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে কাজের মান যাচাইয়ে স্বাধীন তদারকি জোরদারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।


