
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। গণভোটের গণরায় কার্যকর, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে শনিবার বিকেলে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেল সাড়ে ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। তেলাওয়াত করেন মাওলানা রুস্তম আলী তাওহিদ। পরে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউ মার্কেট হয়ে তুফান কোম্পানির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা “আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ”, “দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা!” ও “জুলাই শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না”—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা নায়েবে আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের অবসান হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিনের গুম, খুন ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। বৈষম্য দূর করে গণমানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
জেলা সহকারী সেক্রেটারি ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমির শেখ নুরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ওসমান গনি, জেলা অফিস সম্পাদক আবু তালেব, শহর আমির জাহিদুল ইসলাম, শহর সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, সদর উপজেলা আমির মাওলানা মোশারফ হোসেন, দেবহাটা উপজেলা আমির মাওলানা ওলিউল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে নেতারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম কমানো এবং সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান। তারা বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কোনো সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়া হলে জনগণ রাজপথে থেকে তার জবাব দেবে।


