
শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ-
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন এর কৈখালী স্টেশনের সদস্যরা কর্তৃক নিরীহ এক ব্যক্তিকে রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের সাহেব খালি গ্রামের মো. নওশাদ কয়েলের ছেলে বৃদ্ধ জাহার আলী কয়েল (৬২) এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে আমার ছেলে মামুন কয়াল (৩৬) স্থানীয় জাদার হাটখোলা এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রেখে চা পান করছিল। এ সময় হঠাৎ করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের কৈখালী স্টেশনে দায়িত্বে থাকা আরই -৪ এম আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে কোস্ট গার্ড সদস্যরা আমার ছেলেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা আমার ছেলে মামুনের কাছে থাকা আমার নামে সাতক্ষীরা থেকে কেনা সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল (চেচিস নং- RMBL EDI3F-162374. ইঞ্জিন নং- BaAS-251374) এবং একটি ১টি স্মার্ট ফোন যার নং- 01762584401 নিয়ে যায়।
বৃদ্ধ জাহার আলী কয়াল আরো বলেন, আমার ছেলেকে চায়ের দোকানের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যে নাটক সাজিয়ে ১১ নভেম্বর ভোর রাত ১ টার দিকে আটক দেখায়। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য মতে উল্লেখ করে রাত দেড়টার দিকে কৈখালী ইউনিয়নের বয়াশিং সংলগ্ন বাচা হোগলডরা খালের পূর্ব পাশে কেওড়া গাছের গোড়ায় মাটির গর্তে সিমেন্টের ব্যাগে রক্ষিত ১টি পাইপ গান, ১টি ওয়ান সুটার গান, ১টি এয়ার গান, ৬ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার দেখায় যা সম্পূর্ণ মিথ্যে ও বানোয়াট। পরে রাত পৌনে চারটার দিকে তারা মামুন কয়ালের বাড়ির ছাদের দক্ষিণ কোনায় খড়কুটা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার দেখায়। প্রকৃতপক্ষে আমার এবং আমার ছেলে মামুন কয়ালের পাকা ছাদ দেওয়া কোন বাড়ি বা ঘর নেই। কোস্ট গার্ড সদস্যরা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে মিথ্যে ঘটনা সাজিয়ে আমার ছেলেকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমার ছেলে মামুন কোন অপরাধের সাথে জড়িত না। এরপরও তার নামে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আইনে পৃথক দুইটি মামলা করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যে ও কোস্ট গার্ডের সাজানো নাটক।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে আটক করার পর ১২ নভেম্বর বেলা ১ টার দিকে আমি কৈখালী স্টেশনে গিয়ে আমার নামে কেনা মোটরসাইকেলটি ফেরত চাইলে তারা পরে দিবে বলে জানায়। মোটরসাইকেল নেয়ার জন্য পরপর তিনদিন কোস্ট গার্ডের কৈখালী স্টেশনে যাওয়ার পর ১৪ নভেম্বর কোস্টগার্ডের সদস্যরা আমাকে জানায় তারা মামুনের সঙ্গে কোন মোটর সাইকেল আটক করেনি। তারা পরিকল্পিতভাবে আমার নতুন মোটরসাইকেলটি গায়েব করে দিয়েছে।
বৃদ্ধ জাহার আলী তার কেনা মোটরসাইকেলটি ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ছেলে মামুন কয়ালকে মিথ্যে মামলার দায় থেকে অব্যহতি দেওয়ার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও স্থানীয় প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


