স্কুলের গণ্ডি ঠিকমতো পার না হওয়া ছেলেটি আজ নিজেকে পরিচয় দেয় সম্পাদক হিসাবে । আছে তার নামে আতঙ্ক। আত্মসম্মান বাঁচাতে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলেন না ঝামেলা এড়ানোর জন্য। অভিযোগ রয়েছে অনিবন্ধিত একটি পোর্টাল খুলে দাপিয়ে বোড়াচ্ছে সাতক্ষীরা জেলার এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। তার চাঁদাবাজির খপ্পর থেকে বাদ পড়েনি সরকারী কর্মকর্তা থেকে ব্যাবাসায়ীরা। আলামিন সরদার (৩০) সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের তুব্বত সরদারের ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে , ‘যশোর বার্তা’ পত্রিকার কখনো স্টাফ রিপোর্টার কখনো নিজস্ব প্রতিবেদক কখনো বা তালা প্রতিনিধি পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হেয়প্রতিপন্ন করার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করে আলামিন। এ বিষয়ে যশোর বার্তা পত্রিকার সম্পাদক শিহাব উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে আমাদের পত্রিকার সাথে জড়িত নয় সে যদি সেই পরিচয় বহন করে বা পত্রিকার নাম করে কোন সুবিধা নিয়ে থাকে তার দায়ভার একান্ত তার। আমরা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সেটা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছি।

স্থানীয়দের দাবি, আলামিন সরদার অনিবন্ধিত একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে কার্ড বাণিজ্য ও তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আতঙ্ক তৈরি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছেও নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করে সে। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে মনগড়া সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের কয়েকজন।
পাটকেলঘাটা এলাকার সাইদ বিশ্বাস, কেশব সাধু , ভাগ্যকূলের মালিক শিবু ঘোষ জানায়, আলামিন “হঠাৎ করে ফোন দিয়ে নিজেকে সাংবাদিক ও সম্পাদক পরিচয় দেয়। এর পরে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয় তুলে ধরে টাকা দাবি করে। দাবী মত টাকা না দিলে নিউজ করার ভয় দেখায় সে। অতপর সে মনগড়া সংবাদ পরিবেশন করে থাকে এবং সংবাদ মুছে দেওয়ার কথা বলে কখনো বা পুলিশ সদস্য কখনো বা স্থানীয় কিছু সাংবাদিকদের বড় ভাই বানিয়ে মধ্যস্থতা করে এরপর টাকার বিনিময়ে সে আবার মুছে দেয়।

স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানায়, আলামিনের নামে কোনো নিবন্ধিত সংবাদমাধ্যম নেই। তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোর্টাল চালু করে সেটিকেই ‘অনলাইন পত্রিকা’র সম্পাদক হিসেবে নিজেকে দাবি করে সে। কিছুদিন আগে তুবা পাইপ ইন্ডাস্ট্রির এমডি মীর শাহিনের কাছে মোটা টাকা চাঁদা দাবি করে । টাকা না দেওয়ায় তার নামে মিথ্য কল্প কাহিনী লিখে তাকে সম্মানহানি করে। কিছুদিন আগে সে নানা অসুবিধার কথা বলে টাটা ক্রপ কেয়ার কেম্পানির মালিক কেশব সাধুর কাছ থেকে টাকা নেয়। দুদিন আগে সে পুনরায় কিছু দাবী করে, টাকা না দেওয়ায় সে ফেসবুকে কেশব সাধুর বিরুদ্ধে মিথ্য কাহিনী লিখে হেও করার চেষ্টা করছে। চাদাবাজির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকে সে।
স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বলেন, আলামিন সরদার নিজের এলাকায় একবার চুইঝাল চুরি করে এলাকা থেকে পালিয়ে আসে তারপর আর বাড়িতে ফেরেনি। একই সাথে কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার কায়পুত্র পাড়ার এক নারীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে সে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আত্মগোপনে থেকে জেলাজুড়ে চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছে । তার এই অপকর্মের জন্য জেল খেটেছে কয়েক বার ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারী কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, আলামিন প্রথমে নিজেকে হোয়াটসআপে সোনার বাংলাদেশ নামে এক অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক পরিচয় দিয়ে আপনার বিরদ্ধে নানা অভিযোগ আছে বলে কিছু টাকা দাবী করে । টাকা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে মনগড়া সংবাদ পরিবেশন করে পাঠানো হয় তাদের হোয়াটসঅ্যাপে এরপর দাবী মত টাকা না দিলে তা ছেড়ে দেওয়া হয় অনলাইন পোর্টালে । নিজেদের আত্মসম্মান বাঁচাতে কখনও বা সমঝোতা করতে হয় তাদের । বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
তালা উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকতা জানান, আলামিনের নামে জেলার বিভিন্ন থানায় ৭ থেকে ৮ টি মামলা রয়েছে । আলামিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালা উপজেলার সহকারী পুলিশ সুপার মো. নুরুল্লাহ জানান, আলামিনের বিরুদ্ধে পাটকেলঘাটা থানায় একটি গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রয়েছে । তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে জানতে আলামিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে নিউজ করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এমনকি তার বিরুদ্ধে নিউজ করলে সে প্রতিবেদককে চরিত্র হরণ করবে বলে হুমকি প্রদান করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জরুরি। পাশাপাশি ভুয়া সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।