
স্টাফ রিপোর্টারঃ
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার(০৭ নভেম্বর) সারাদেশের ন্যায় সাতক্ষীরাতেও জেলা বিএনপির উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত । জানাগেছে, সংগঠনটির হাজার হাজার নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে জেলা শহরে দলটির নেতাকর্মীদের স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ মিলন মেলায় পরিনত হয়।
তবে বিপত্তি বাধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে চুড়ান্ত ঘোষণার আগে নিজে মনোনয়ন প্রার্থী দাবী করা বিএনপি নেতা আব্দুল আলিমের লজ্জা।
মনোনয়ন না পেয়ে জেলা বিএনপির আয়োজিত এমন অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে শুরু করেন দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী পরিবর্তনের অপচেষ্টা, যা তার বহিষ্কারের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করেন জেলার প্রবীণ নেতারা।
জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানান, মনোনয়নের নেশায় সে গোপনে জেলায় বিভিন্ন পেশার ছদ্মবেশে থাকা আওয়ামী লীগের দোসরদের সাথে সন্ধির মাধ্যমে এই অপকর্মে জড়িয়ে দলের ক্ষতি করছেন। তারা বলেন আব্দুর রউফের বিজয় নিশ্চিত জেনে আওয়ামী দোসর ও জামায়াতের একটি কুচক্রী মহল আব্দুল আলিমের মনোনয়ন আকাঙ্খাকে পুঁজি করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। জেলা বিএনপিসহ দলীয় প্রার্থী হিসেবে সকলের পছন্দের আব্দুর রউফের বিজয় নিশ্চিত জেনে একটি চক্র অপপ্রচারে নেমেছে বলে জানা গেছে । পূর্বের মিমাংসিত বিষয় তুলে ধরাটা আওয়ামী চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুইনা বলে চানান একাধিক নেতৃবৃন্দ। বিগত সরকারের আমলে যে নির্বাচনে অংশগ্রহন করায় আব্দুর রউফ বহিষ্কার হয়েছিলেন, ঠিক সেই নির্বাচনের আরেক ধাপেই আব্দুল আলিম চেয়ারম্যান হয়। তাহলে সে কেনো বহিষ্কার হলো না প্রশ্নের জবাবে একাধিক নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক ও জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবের জেল খানায় থাকা ও দলীয় গ্রুপিংয়ের শিকার আব্দুর রউফ। তাকে আওয়ামী লীগের দোসররা এতটাই চাপে রাখার চেষ্টা করে তা তাকে নিয়ে শেখ হাসিনার নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য যারা শুনেছেন সবাই জানে। তাকে দমিয়ে রাখতে তার একমাত্র পুত্র আবু সেলিমকে শেখ হাসিনার নির্দেশে গুম করা হয় তা তৎকালীন সময়ের ওপেন সিক্রেট।
অভিযোগ উঠেছে, যত্রতত্র নিজের কাছের দুএকজনকে সামনে রেখে সকলের সম্মতি না নিয়ে ৩৩ জনের একটি আবেদন মহাসচিবের কাছে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
দলীয় গ্রুপিংয়ের ফয়দা নিয়ে মনোনয়ন পাগল বিএনপি নেতা আব্দুল আলিম ঐ আবেদন জেলা নেতৃবৃন্দের কাছে অনুলিপি না দিয়ে রহস্যজনক ভাবে খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে পাঠিয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বহিষ্কার আতঙ্কে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলিমের একাধিক আস্থাভাজন নেতারা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিতে সদর উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে আলিম সমর্থক এক দুজন ছাড়া নতুন কমিটির তেমন কেউ আবেদনে স্বাক্ষর করেননি। বেশির ভাগ ইউনিয়ন নেতারা জানান, আবেদনে যারা স্বাক্ষর করেছে সকলকে বিএনপি নেতা আব্দুল আলিম ফোন করে বিনেরপোতা অফিসে ডেকে নিয়ে উপস্থিতির কাগজ বলে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। কয়েক জন নেতা এবিষয়ে কথা বলতে চাননি, আর কয়েক জন বলেন জেলার এমন উচ্চ পর্যায়ের নেতা স্বাক্ষর করতে বললে আর না করতে পারিনি আমরা পরিস্থিতির স্বীকার।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক এইচ এম রহমতউল্লাহ পলাশ জানান, এই বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।


